President

বেসরকারি নাগরিক সংগঠনের জোট সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান-সুপ্র্র “এসডিজি অর্জনে দরকার, প্রগতিশীল কর সংস্কার” শীর্ষক জাতীয় সংলাপের আয়োজন করে। কর সুশাসন ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগঠনটি জাতীয় সংলাপের আয়োজন করে।

বুধবার (১৩ ডিসেম্বর)জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

সুপ্র সভাপতি এস. এম. হারুন অর রশীদ লাল -এর সভাপতিত্বে ও সুপ্র জাতীয় পরিষদ সদস্য আবদুল আউয়ালের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী এম, এ, মান্নান, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন কাজী রোজী এমপি, সহ-সভাপতি, জাতীয় পরিকল্পনা ও বাজেট সম্পর্কিত সংসদীয় ককাস; নাজমুল হক প্রধান, এমপি, সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় পরিকল্পনা ও বাজেট সম্পর্কিত সংসদীয় ককাস ও বিএনপি’র সাবেক সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। সভায় মূখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. এম এ মজিদ, আলোচক হিসেবে ছিলেন মূসক কমিশনার মো. মতিউর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. এম আবু ইউসুফ, উইমেন চেম্বারের সভাপতি সেলিমা রহমান প্রমূখ।

সংলাপের শুরুতেই সুপ্র’র পক্ষে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এম এ কাদের এবং দাতা সংস্থা অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশের পক্ষে সংগঠনের ইকোনোমিক জাস্টিস রেসিলিয়েন্স প্রোগ্রাম ম্যানেজার ড. খালিদ হোসেন। জেলা ও বিভাগীয় শহর থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন দাবি সম্বলিত আলোচনাপত্রটি উপস্থাপন করেন সুপ্র নির্বাহী সদস্য কেজীএম ফারুক।

ড. এম এ মজিদ বলেন, শতকরা ৮% করদাতাই মূলত কর রাজ্যকে নিয়ন্ত্রণ করেন। ভ্যাট সবাই দিচ্ছে কিন্তু সরকার কোষাগারে সেটা যাচ্ছে কিনা সেটা নিশ্চিত করতে হবে। সুপ্র’র উদ্যোগ ভালো। তবে কর ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
মতিউর রহমান বলেন, এসডিজি’র অনেক সূচকই উন্নয়নের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। আর উন্নয়নের সঙ্গে বিনিয়োগটা জড়িত। এজন্য এসডিজি বাস্তবায়নে আভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ জরুরী। কর ফাঁকি’র সুযোগ তৈরী হয় মূলত সিস্টেমের কারণে নীতি’র কারণে নয়। এটা পলিসি ইস্যু নয়, বাস্তবায়নের সাথে সম্পৃক্ত। চ্যালেঞ্জ নেবার মতো সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ তৈরী করে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দরকার। নইলে আমরা সেভাবে এগোতে পারব না।
এম এ মান্নান এমপি বলেন, সুপ্রকে ধন্যবাদ ভালো একটা আয়োজনের জন্য। এ ধরণের আলোচনা দরকার। যেখানে কর দিতে সবাই অনাগ্রহী সেখানে করকে প্রগতিশীল করাটা অনেক চ্যালেঞ্জ ও কষ্টকর। আমাদের দেশ অনেক এগিয়েছে। আমরা মোটেও দরিদ্র নই বলে আমরা মনে করি। আমরা অনেক অপচয় করি ব্যক্তি পর্যায় থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও। এ ধরনের অবস্থা থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে। কর ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আমাদের সবাইকে এক হতে হবে।


এছাড়াও সভায় জেলা পর্যায় থেকে আগত সুপ্র’র জেলা প্রতিনিধি, এনজিও ও নাগরিক প্রতিনিধি, গণমাধ্যম কর্মীরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন এনজিও ও নারী প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, আইনজীবি, সাংবাদিক, ছাত্র-শিক্ষক প্রমূখ।

ন্যায্য কর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সুপ্র’র তৃণমূলের উল্লেখযোগ্য দাবি ও সুপারিশ
১. করের বিপরীতে নাগরিক সুবিধাগুলো নিশ্চিত করতে হবে।
২. স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত হওয়া প্রয়োজন যা কর ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য আবশ্যক।
৩. দরিদ্রপ্রবণ এলাকাকে মূসকের (ভ্যাটের) আওতামুক্ত রাখা। সর্বোপরি কর ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করতে নি¤œ আয়ের ব্যক্তিদের কথা বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে মূসক (ভ্যাট) আইন ও নীতি প্রণয়ন করতে হবে।
৪. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটিগুলোকে সক্রিয় করা জরুরী।
৫. কর্পোরেট কর ফাঁকি বন্ধে সরকারের পক্ষ থেকে আইন সংস্কার-এর মাধ্যমে বিদেশী কোম্পানীগুলোর কাছ থেকে রয়ালিটি সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে এদেশ থেকে পাচার হওয়া সকল অর্থ উদ্ধারের ক্ষেত্রে সরকারকে শক্তিশালী লবি শুরু করা আশু প্রয়োজন।

 

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/ এইচ কে/এস আর

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৮:০১ পি.এম