spacer image
spacer image
spacer image
ফিচার  »  বিচিত্রময় এ বিশ্ব
সত্যিই কি মৎস্য কন্যা.!
spacer image
    সত্যিই কি মৎস্য কন্যা.!
টাইমস ওয়ার্ল্ড: গল্প-গাথার মৎস্যকন্যার মতোই লেজ নাড়িয়ে সাগরের তলদেশে ঘুরে বেড়ান তিনি। ডলফিন, তিমি, হাঙর আর মাছেরা তাঁর বন্ধু। ছেলেবেলার শখটাকেই বাস্তবে রূপ দিয়েছেন হানা ফ্রেজার।

প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে ভেসে বেড়াচ্ছে ছোট্ট একটি নৌকা। আরোহী দুজনের অন্যজন নারী। একসময় আস্তে করে নৌকা থেকে সাগরের বুকে লাফ দিলেন দুজনেই। সাগর এখানে শান্ত। আস্তে আস্তে লেজ নাড়িয়ে সাগরের গভীরে পৌঁছে যাচ্ছেন নারীটি। এক মিনিটের মাথায় এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলো তাঁর। একটি শিশু তিমি। পুরুষসঙ্গীটি এমন কিছুর জন্যই যেন ওত পেতেছিলেন। তাঁর নাম টেড গ্রামবিউ। পেশায় আলোকচিত্রী। ঝটপট ক্যামেরা বের করে শাটার টিপতে শুরু করলেন তিনি। তবে সময় বেশি পেলেন না। হঠাৎ করেই বিশাল এক ঢেউ সরিয়ে নিল মৎস্যকন্যাকে। কি আর করা! মন খারাপ করে ওপরে উঠে এলেন টেড।

ছবিগুলো দেখতে শুরু করলেন। হঠাৎ নৌকার পেছন দিকটা যেন একটু হেলে পড়ল। মাথা ঘুরিয়ে দেখলেন_নৌকায় উঠছেন মৎস্যকন্যাও। আফসোসের শেষ নেই টেডের_'ঢেউটা আরো একটু পরে এলে অনেকগুলো ছবি তুলতে পারতাম।' একটু দম নিয়ে বললেন, তবে যে কটি তোলা গেছে মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। আশা করা যায় ছবির কাজ সারা যাবে।' ছবি দেখতে এগিয়ে এলেন মৎস্যকন্যা। মুখে তাঁর অজানা হাসি। ছবি দেখে তিনিও মুগ্ধ। নৌকাটা তরতর করে এগিয়ে চলছে টাঙ্গা দ্বীপের দিকে। মৎস্যকন্যা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন লুকানো জিপারটির খোঁজে। একটু পরেই জিপারটি খুলে ফেললেন আর একটানে বের করে আনলেন লেজ। সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে এলো ধবধবে ফর্সা একজোড়া পা!

এই মেয়েটিরই নাম হানা ফ্রেজার। জন্ম অস্ট্রেলিয়ায়। তবে ঠিকানা এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস। মারমেইড মানে মৎস্যকন্যা তাঁকে ধরেছে সেই শৈশবে। হানার প্রিয় ছিল ডিজনির 'মৎস্যকন্যা'। তিন বছর বয়স হওয়ার আগেই ড্রইং খাতা ভরিয়ে ফেলেছেন মৎস্যকন্যা এঁকে। মেয়ের উৎসাহ দেখে মা-বাবা এনে দেন আরো অনেক মৎস্যকন্যার বই। প্রিয় জিনিস পেয়ে হানাও ডুবে গেল। বাড়ির সুইমিংপুলেই তাঁর সময় কাটে বেশি। সাঁতরাতে ভালো লাগে খুব। লেজ বানানোর ফন্দি আঁটে। ৯ বছর বয়সেই কমলা রঙের টেবিল ক্লথ কেটে বানিয়ে ফেললেন চমৎকার একটি লেজ।

'স্প্ল্যাশ' নামের একটি সিনেমায় অভিনয় করেছে হানা। সেখানে সাঁতার কাটতে ভালোবাসে এমন এক বালিকার চরিত্র ছিল তাঁর। সুযোগ পেয়েছেন আরো কয়েকটি ছবিতে অভিনয়ের। সব ছবিই পানিতে পড়ে থাকতে ভালোবাসে এমন মেয়ের চরিত্র।

হানা বিয়ে করেছেন ডেভ রাস্তোভিচকে। স্বামীও তাঁর জলপাগল। পেশায় সার্ফার। হানার ৩৬ বছর বয়স এখন। তিনি একই সঙ্গে অভিনেত্রী, মডেল এবং মৎস্যকন্যা। হানা ফ্রেজারই সম্ভবত বিশ্বের প্রথম এবং একমাত্র পেশাদার মৎস্যকন্যা। শ্বাস বন্ধ রেখে প্রায় আড়াই মিনিট ঘুরে বেড়াতে পারেন সাগরতলে।


চলে যেতে পারেন এমনকি ৪৫ ফুট গভীরেও। লেজ ছাড়া আর কিছুই লাগে না তাঁর। লেজ নাড়িয়ে সাঁতার কাটতে কাটতে তিনি বন্ধুত্ব করেন ডলফিন, তিমি, সামুদ্রিক মাছ আর কচ্ছপের সঙ্গে। তবে জলে চলতে গিয়ে বিপদেও পড়ছেন তিনি। বছর তিনেক আগে সাঁতার কাটতে গিয়েছিলেন মেক্সিকোর গুডালোপ দ্বীপে। পাশেই সাঁতরাচ্ছিল একটি সাদা হাঙর। হঠাৎ করেই প্রায় ১৪ ফুট লম্বা হাঙরটি তেড়ে এলো। তবে হানা ঘাবড়ে যাননি। চোখ-মুখ বাঁকিয়ে তিনিও ভয় দেখাতে লাগলেন। মুখ ঘুরিয়ে অন্যদিকে চলে গেল হাঙরটি।

'মৎস্যকন্যা হওয়া সহজ কাজ নয়', বললেন সত্যিকারের মৎস্যকন্যা_'আমাদের চোখ লবণাক্ত পানির জন্য মোটেই উপযুক্ত নয়। যদিও চোখের জলের লবণাক্ততার সঙ্গে সাগর জলের মিল রয়েছে; তার পরও লম্বা সময় ক্লোরাইড মিশ্রিত পানিতে থাকলে চোখ জ্বালা করে। সাগরের পানিতে কিছুই পরিষ্কারভাবে দেখা যায় না।' তাহলে কিভাবে তিনি ঘুরে বেড়াচ্ছেন সাগরের বুকে?

উত্তর দিলেন এভাবে ১০ হাজার মার্কিন ডলার খরচ করে চোখের জন্য বিশেষ ধরনের লেন্স তৈরি করে নিয়েছি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়েছি সুইমিংপুলে। শ্বাস নিয়ন্ত্রণ করার অভ্যাস করেছি। তবে এ চর্চা সবার করা উচিত নয়। আমি নিয়মিত যোগব্যায়াম করি। ফলে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাও আমার অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি।' সাতটি লেজ রয়েছে তাঁর।

বেশ কায়দা করে বানানো। যদিও লেজ তৈরির কৌশল জানাতে আগ্রহী নন, তবুও শিশুদের কথা ভেবে রহস্য ফাঁস করলেন_'লেজ বানানোর জন্য প্রথমেই জোগাড় করতে হবে পানিরোধক কাপড়। তারপর মাপ দিয়ে সেখানে জিপার বসিয়ে নাও। কাপড়টি এবার মনের মতো করে রং করো। এরপর আঠা দিয়ে জোড়া লাগিয়ে বসাও মনোফিন (প্লাস্টিকের লেজ)। এরপর রোদে শুকাও। তৈরি হয়ে যাবে তোমার লেজ।'

টাইমস ওয়ার্ল্ড২৪.কম/নূরে জান্নাত/স/ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১

sparator image

jp image
ফিচার » বিচিত্রময় এ বিশ্ব
bullet image
bullet image
bullet image
bullet image
bullet image
bullet image
bullet image
bullet image
bullet image
bullet image
bullet image
bullet image
bullet image
bullet image
bullet image
bullet image
bullet image
bullet image
bullet image
bullet image
bullet image
bullet image
bullet image
bullet image
bullet image
   
border image
spacer image
jpg image
jpg image
spacer image


অনলাইন পুল
 

টিআইবি বলেছে, সম্প্রচার নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু হবে। আপনিও কি একমত?

  • হ্যাঁ
  • না
  • মন্তব্য নাই
Ajax Loader
 





 
  

 

Editor: Anjan Roy
Mobile : 01733892200.
Phone : 88-02- 9136620.  Fax- 88-02- 9103584.
E-Mail : news@timesworld24.com

12 Kawran Bazar, BDBL Bhaban, Level-6,
Dhaka-1215, Bangladesh
Copright © 2012 Times World Media Ltd.
All Rights Reserved